বাদাম খাওয়ার উপকারিতা ২০২২
শারীরিক উপকারিতা পুষ্টিগুণের দিক থেকে দেখতে গেলে কোন বিকল্প হয় না বাদামের বললেই চলে। এতে রয়েছে শরীরের মজবুত রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন, সেলেনিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন-সি, অ্যান্টিঅডেন্ট, পটাশিয়াম ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং আরো কত কি, নানা ভাবে আমাদের শরীরের কাজে লেগে থাকে বাদাম।
আপনি যদি নিয়মিত এক বাটি করে বাদাম খাওয়া শুরু করেন। তাহলে আপনার শরীরে এমন কিছু উৎপাদনের প্রবেশ ঘটবো ও সেই সঙ্গে আমাদের শরীরের একাধিক গ্রুপকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে। বাদাম খাওয়ার নানান স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত।
১. হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে বাদামে উপস্থিত ফসফরাস শরীরে প্রবেশ করার পর এমন কিছু কাজ করে যার প্রভাবে হার্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। তাইতো প্রতিদিন এক বাটি বাদাম খাওয়া শুরু করুন তাহলে আপনার জীবনে কোনও দিন কোনও হাড়ের রোগের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।
২. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়: আমেরিকান অ্যান্ড্রস ইউনিভার্সিটির গবেষকদের করা এক পরীক্ষায় দেখা গেছে বাদামে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা কগনিটিভ পাওয়ার। সহজ ভাবে বললে মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাইতো পরীক্ষার আগে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ম করে বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।
৩. ক্যান্সারের মত রোগ দূরে থাকে: বাদামের উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধ করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নতি ঘটানো মধ্য দিয়ে নানাবিধ সংক্রমণকে ধরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৪. পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়: বাদামে রয়েছে প্রায় ৬ গ্রাম এর মতো প্রোটিন, ৩.৫ গ্রাম এর মতো ফাইবার, ১৪ গ্রাম এর মতো ফ্যাট সহ ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন-ই, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি২, ফসফরাস। এইসব কয়টি উপাদানের আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে বেশ ভূমিকা পালন করে।
৫. খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে: শরীরে যাতে কোনোভাবেই বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি না পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাহলে আপনি এই কাজটি কীভাবে করবেন? আপনি যদি প্রতিদিনের ডায়েটে বাদামের অন্তর্ভুক্তি করেন, তাহলেই দেখবেন যে, আপনার হার্টের স্বাস্থ্য নিয়ে আর চিন্তায় থাকতে হবে না। আসলে বাদামে বেশ কিছু উপস্থিত কার্যকরী উপাদান যা শরীরে অন্দরে ভালো কোলেস্টরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে
৬. ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে: শুধু ডায়বেটিস নয়, বাদামে যে মরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম আছে ঘা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে থাকে। একাধিক কেস স্টাডি করে আমরা দেখছি শরীরে এই খনিজটির ঘাটতি দেখা দিলে তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্লাড প্রেসার মারাত্মক ভাবে যায়। আর যদি বেশিদিন রক্তচাপ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে।,তাহলে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক এবং কিডনির সমস্যা দেওয়ার মতো আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই দেহে যাতে কোনও সময় ম্যাগনেসিয়াম এর ঘাটতি দেখা না দেয়, সেদিকে আমারদের খেয়াল রাখতে হবে।
৭. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে: বাদামে থাকা ম্যাগনেসিয়াম রক্তে উপস্থিত শর্করার মাত্রা কে নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। সেই কারণেই তো ডায়বেটিক রোগীদের নিয়মিত বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। তাই যাদের পরিবারের এই মারণ রোগের ইতিহাস রয়েছে। তারা সময় থাকতে বাদামকে কাজে লাগাতে শুরু করে দিন। দেখবেন উপকার মিলবে।
৮. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে। নিয়মিত পানিতে ভেজানো কাচা বাদাম খেলে দেহের ওপরে বিশেষ কিছু এনজাইমের ক্ষরণ বেড়ে যায়। যার প্রভাবে হজম ক্ষমতা উন্নতি করতে শুরু করে। সেইসঙ্গে গ্যাস অম্বলের প্রকোপও কমে যায়। এবার বুঝেছেন তো খাদ্য রসিক বাঙ্গালী, আমাদের কেন প্রতিদিন এক মুঠো করে বাদাম খাওয়া উচিত।